জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জেলার ডাসার উপজেলার বালীগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং আহতদের উদ্ধার করতে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আবু নাঈম খান (৫৫)। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি মিনি ট্রাক চালাচ্ছিলেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বয়াগ্রাম এলাকার জুয়েল (৩৫), একই উপজেলার এলোবাদী গ্রামের সজীব (২৫) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপারা গ্রামের আমিরুল (৩২)। অপর আহত ব্যক্তির নাম লাভলু (৩০), তবে তার বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে জুয়েল অন্য ট্রাকটির চালক এবং সজীব তার সহকারী (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ভোরবেলা কুয়াশা বা অসতর্কতার কারণে কর্ণপাড়া এলাকায় বিপরীতমুখী দুটি ট্রাকের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মিনি ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আবু নাঈম খান প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার কাজে হাত দেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ডাসার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চারজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক দুটি মহাসড়ক থেকে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসতর্কতা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


