মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের অবহেলা দেখলে সরাসরি বার্তা পাঠানোর আহ্বান আইনমন্ত্রীর

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের অবহেলা দেখলে সরাসরি বার্তা পাঠানোর আহ্বান আইনমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

ঝিনাইদহ পৌরসভায় একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের মাদকবিরোধী ভূমিকা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি কোনো এলাকায় মাদক নির্মূলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলা দেখা যায়, তবে সরাসরি তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে ঘটনাটি জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, তথ্য পাওয়ার পর সরকার এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ পৌরসভায় নবনির্মিত কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে বাজেট ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘গরিব মারার বাজেট মানি না’ বলে স্লোগান ও মিছিল হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী বাজেটের পর দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। এখন সিগারেট ও মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল হচ্ছে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বর্তমান বাজেটকে জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে এর সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে নবনির্মিত আধুনিক কসাইখানার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহবাসীর জন্য একটি মাইলফলক। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে পশু জবাই করা হলে মাংসের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে এই স্থাপনার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংসের চাহিদা মেটাতে এই আধুনিক কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রক্রিয়া ও নির্মাণযজ্ঞ শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আধুনিক এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্পূর্ণ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। স্থানীয় ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পের মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যেখানে স্বয়ংক্রিয় ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় অংশীজনদের মতে, এই প্রকল্প চালুর ফলে এই অঞ্চলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাইয়ের প্রবণতা কমবে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আমিষের জোগান নিশ্চিত হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। বক্তারা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ