শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

জনসংখ্যাকে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দেশের বিদ্যমান বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে এই বিশাল জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করা অপরিহার্য এবং এই রূপান্তরের মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরা।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী সরকারের শিক্ষা নীতি ও উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেছেন, তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই বাজেট বরাদ্দ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কেবল প্রচলিত উচ্চ শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অবস্থান সুসংহত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো জরুরি। তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় ঘটলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

পূর্ববর্তী শিক্ষা নীতি ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রান্তিকালীন সময় স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক ধরনের স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই সংকট কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাধারা প্রবর্তনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একটি আনন্দমুখর ও সৃজনশীল পরিবেশে শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানচর্চা করতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে। বর্তমান নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ফলেই দেশের শিক্ষাঙ্গনে এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। একাডেমিক ক্ষেত্রে অসামান্য ফলাফল ও গবেষণামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষদভিত্তিক অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ২৯ জন শিক্ষার্থী এই গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া কলা অনুষদের ২১ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে এই পদক দেওয়া হয়। আইন অনুষদ এবং চারুকলা অনুষদ থেকে ৩ জন করে শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষাবিদরা বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণে এবং উচ্চশিক্ষায় আরও মনযোগী হতে উৎসাহিত করবে, যা ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ