আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) প্রতি তাঁর জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সামরিক শক্তি ও কূটনীতির সঠিক সমন্বয়ের ফলেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, যা মার্কিন প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জন নিশ্চিত করেছে। চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ইরানকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হতো, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনতে পারত।
চুক্তির আইনি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে এই নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, সংগ্রহ বা ক্রয় করতে পারবে না। সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অধীনে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত হ্রাস করার বিষয়ে আলোচনা করবে। এর বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর সাময়িক ছাড় দেবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই চুক্তির পরিধি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আওতায় লেবাননে চলমান ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। জি৭ জোটের অন্যান্য সদস্য দেশ, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক তদারকি মিশন মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।


