অপরাধ ডেস্ক
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলার তিনজন সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ওই গ্রামে নিহত শিশুর বাড়িতে গিয়ে তারা সমবেদনা জানান এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট অধিবেশনে থাকাকালীন এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই জেলার তিনজন সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নন্দিনীর পরিবারের খোঁজ নিতে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এসেছেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দায় স্বীকার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে। অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।
ঘটনাস্থলে আসামি গ্রেপ্তারের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন আসামিকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিলেন, তখন কার ইন্ধনে বা উসকানিতে প্রশাসনের ওপর আক্রমণ করা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনাটিকে আরেকটি পৃথক অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তবে যারা মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রশাসনকে আক্রমণ করেছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
পরিদর্শনকালে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল এবং লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, একটি শিশুকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বিধান চন্দ্র নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যে ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।


