অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জননিরাপত্তা রক্ষা ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর পৃথক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের সরবরাহ করা থানাভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর আটটি থানায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ ১০ জন এবং মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। এছাড়া রমনা থানা এলাকা থেকে ২ জন, খিলক্ষেত থেকে ২ জন এবং বংশাল, কদমতলী, মিরপুর ও তুরাগ থানা এলাকা থেকে ১ জন করে মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কোনো সহিংস বা নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর থেকেই দলটির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক তৎপরতা ও জমায়েতের ওপর কঠোর নজরদারি রাখছে প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে জনসমক্ষে বা গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং তা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
ডিএমপি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। রাজধানীর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


