শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ডেস্ক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিরাজমান অবকাঠামোগত সমস্যা এবং জমি সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬) দুপুরে সংক্ষিপ্ত এক সফরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের আমন্ত্রণে তিনি এই পরিদর্শনে আসেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বিগত দেড় দশকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কেন থমকে ছিল এবং কেন এর অবকাঠামোগত অগ্রগতি হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে সরকারের আর্থিক বরাদ্দ ও মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত জমি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ৫০ একর আয়তনের এই ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের আবাসন, গবেষণা এবং একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস (সেকেন্ড ক্যাম্পাস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমান ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হয়তো সব ধরনের আধুনিক সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন না, তবে বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাবেশ লাভ করতে পারবে। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন সংকট, ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির অপর্যাপ্ততা এবং পর্যাপ্ত জমির অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক হলের সংখ্যা খুবই কম, যার কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়, যা তাদের আর্থিক ও নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রীর এই সফরকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, নতুন আবাসিক হল স্থাপন এবং দ্রুত ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণ এবং গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ মন্ত্রীর এই সফর এবং আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনগুলোতে একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
সংক্ষিপ্ত সফর ও মতবিনিময় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন। মন্ত্রীর এই সফরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


