আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই তীব্র ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও আশপাশের এলাকায় শতশত ভবন ধসে পড়েছে। রাজধানী কারাকাসের প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে বহুতল ভবনগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার দেয়াল ভেঙে, লোহার গ্রিল উপড়ে পড়ে চারদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং সেনাবাহিনীও যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, দুর্যোগের এই ভয়াবহ মুহূর্তে প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, কম্পন শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে তারা তাদের মুঠোফোনে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা (আর্থকোয়েক অ্যালার্ট) পেয়েছিলেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সতর্কবার্তা অনেককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সাহায্য করেছে। তবে কম্পনের তীব্রতা এবং ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অনেক স্থানেই বাসিন্দারা সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারেননি।
ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও চিত্রে দেখা গেছে, কারাকাসের সড়কগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হওয়ার আগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


