অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়ার পাশাপাশি বহুজাতিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট নাইকি ও অ্যাডিডাসের মধ্যকার বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা তীব্র রূপ নিয়েছে। মাঠের খেলার রোমাঞ্চের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিশাল এই বাজার দখলে উভয় প্রতিষ্ঠানই বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তবে প্রাথমিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী নাইকির তুলনায় এবার অ্যাডিডাস বেশি সুবিধা ও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের অংশীদারিত্ব হারানোর পর নাইকি যখন নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে মরিয়া, তখনই আসন্ন চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা তাদের এই প্রতিযোগিতার ফলাফল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এবারের আসরের অফিসিয়াল স্পন্সর এবং ফুটবলের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে অ্যাডিডাস ১৪টি জাতীয় দলকে স্পন্সর করছে এবং ম্যাচের অফিসিয়াল বল সরবরাহ করছে। অপরদিকে, নাইকি ১২টি দলের পোশাক সরবরাহ করার পাশাপাশি বিক্রয় ও ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়াতে স্থানীয় স্ট্রিট-ওয়্যার ডিজাইনারদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বজুড়ে ৫ হাজারের বেশি দোকানে বিশেষ ফুটবল পণ্য সরবরাহ করছে। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এম সায়েন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে অ্যাডিডাসের পোশাক খাতের বিক্রয় ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে এবং জুনেও এই ধারা বজায় রয়েছে, যার মূল কারণ বিশ্বকাপের আগে জার্সি বিক্রির ব্যাপক প্রবৃদ্ধি। নাইকির পোশাক ব্যবসাতেও প্রবৃদ্ধি হলেও তা অ্যাডিডাসের তুলনায় ধীরগতির।
ক্রেতাদের সমাগম বা ‘ফুট ট্রাফিক’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাডিডাসের স্টোরগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ৪৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, নাইকির ফ্যাক্টরি স্টোরগুলোতে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় সামগ্রিক সমাগম ছিল নিম্নমুখী। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ডাঙ্ক এবং এয়ার জর্ডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিক জুতার চাহিদা কমে যাওয়া এবং অন ও ডেকার্সের মতো নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্ভাবনী পণ্যের কাছে বাজার হারানোর কারণে নাইকির সামগ্রিক বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। তথ্যমতে, বৈশ্বিক স্পোর্টস ফুটওয়্যার বাজারে নাইকির অংশীদারিত্ব ২০২২ সালের ২৯.২ শতাংশ থেকে কমে গত বছর ২২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
যদিও নাইকি সম্প্রতি উয়েফার বল সরবরাহের ২৫ বছরের চুক্তি নিজেদের পক্ষে নিতে আলোচনা শুরু করেছে, তবে অ্যাডিডাসও তাদের নতুন প্রযুক্তির হালকা জুতার মাধ্যমে ম্যারাথনে বিশ্বরেকর্ড গড়ে প্রযুক্তির লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া নাইকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলিয়ট হিল ফুটবল ও দৌড়ের মতো মূল খেলাগুলোতে পুনরায় মনোযোগ দিয়ে বাজার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখনও নাইকির অংশীদারিত্ব দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাডিডাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং লোগান ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করে, দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতায় নাইকি এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।


