অপরাধ ডেস্ক
র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চক্রের প্রধান মো. আলামিন ও তাঁর সহযোগী গাড়িচালক মো. রায়হান। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আলামিন ও রায়হানের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে ডাকাতি করে আসছিল। চক্রটি কখনও র্যাব, কখনও পুলিশ, আবার কখনও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের পরিচয় দিয়ে যানবাহন থামাত। এরপর তল্লাশির নামে চালক ও যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। ডাকাতি কার্যক্রমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও ভুয়া স্টিকার ব্যবহার করত।
সম্প্রতি রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে র্যাব অভিযান চালিয়ে মূল হোতা আলামিনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী রায়হানকে নিকটস্থ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, থানা থেকে লুট হওয়া দুই সেট হ্যান্ডকাপ, র্যাবের ছয়টি কটি, পুলিশ স্টিকার, সেনাবাহিনীর মাস্ক, ওয়াকিটকি, লেজার লাইট এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেট ও আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আলামিন পূর্বে বৈধ পেশায় নিয়োজিত থাকলেও পরবর্তীতে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি মূলত ডাকাতির পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দিতেন। অন্যদিকে রায়হান একজন পেশাদার চালক হয়েও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের সংস্থান ও ঘটনাস্থল রেকি করার দায়িত্ব পালন করতেন। ডাকাতির সময় তিনি নিজেই চালকের আসনে থেকে দ্রুত পলায়নে সহায়তা করতেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আলামিন একজন কুখ্যাত ডাকাত এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম প্রধান আসামি তিনি। গত বছরের মে মাসে তিনি একবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। আলামিনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও, মুগদা, কেরানীগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র আইনে অন্তত আটটি মামলা বিচারাধীন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভীতিকে পুঁজি করে এই ধরণের অপরাধ জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গ্রেপ্তারের ফলে মহাসড়কগুলোতে ডাকাতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপরাধ করার প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।


