প্রাচীন গ্রন্থ ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ সংস্কৃতি মন্ত্রীর

প্রাচীন গ্রন্থ ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ সংস্কৃতি মন্ত্রীর

সারাদেশ ডেস্ক

দেশের হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন গ্রন্থ, পাণ্ডুলিপি ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে।

আজ যশোরের ঐতিহ্যবাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির চলমান কার্যক্রম, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য পুঁথি, পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থসম্ভার পরিদর্শন করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এগুলোকে জাতির ইতিহাস ও জ্ঞানচর্চার অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুধীজন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের বাজেট ও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নীতিগত সহায়তা কামনা করেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

যশোরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সভায় জানানো হয়, যশোর বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম এক সমৃদ্ধ জনপদ। এই অঞ্চলের অবদান কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামগ্রিক জাতীয় গৌরবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বক্তাদের বক্তব্যের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, দেশের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোর সাংস্কৃতিক বিকাশ ও বিশ্বপরিসরে তা তুলে ধরতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ