সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, অনিয়ম রুখতে ডেপুটি স্পিকারের হুঁশিয়ারি

সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, অনিয়ম রুখতে ডেপুটি স্পিকারের হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক

সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এবং ‘এক আইডি এক পরিবার’। সরকারের এই রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেত্রকোণার কলমাকান্দা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুমে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু এবং পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এটি মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী প্রকল্প, যা দেশের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া পরিবারকে মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর আগে দেশব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির পাইলটিং প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা সরকারের যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনই দুর্নীতির আওতায় পড়ে না; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকৃত অভাবীদের ঘরে না গিয়ে তথ্য সংগ্রহে অবহেলা করাও এক ধরণের বড় প্রশাসনিক অপরাধ। মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন যেন পরবর্তী কার্যক্রমে সবার আগে ঝুঁপড়ি ঘর, ছনের ছাউনি দেওয়া বাড়ি এবং চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বক্তব্যে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রীয় সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা উপজাতীয় কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি ভুলবশত কোনো সচ্ছল ব্যক্তি এই কার্ড পেয়ে থাকেন, তবে তা যেন নিকটবর্তী প্রকৃত দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কল্যাণে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়নের ৭৯৪ জন নির্বাচিত উপকারভোগীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হস্তান্তর করা হয়। কার্ড সুবিধা প্রাপ্তির পর স্থানীয় উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের প্রতি সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সুবিধাভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ, পুষ্টিকর খাদ্য ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম, কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম এবং লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র আমূল বদলে যাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ