জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পিছিয়ে ১৪ জুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পিছিয়ে ১৪ জুন

আইন আদালত ডেস্ক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পিছিয়েছে। আগামী ১৪ জুন এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ রবিবার (১৭ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ মামলার পূর্বনির্ধারিত কার্যদিবসে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য সময়ের আবেদন করেন। বিচারিক প্যানেল সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানি মুলতবি করেন এবং আগামী ১৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

শুনানির সময় আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মঈনুল করিম। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত ডিফেন্স (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়। ওই দিন মামলার ২৬তম তথা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। গত ১৯ এপ্রিল এই তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে প্রবেশ করে।

মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন আদালত। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানির পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দেন।

আইনজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনই এখন চূড়ান্ত রায়ের পূর্ববর্তী প্রধান ধাপ। আগামী ১৪ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হলে এই স্পর্শকাতর মামলার আইনি পরিণতি কোন দিকে যাচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ