জাতীয় ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন যাত্রী বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট প্রতিশ্রুতির আলোকে বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালও দ্রুত উদ্বোধনের মাধ্যমে বিমান খাতের আধুনিকায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমানবন্দরের সামগ্রিক সেবা আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন, যা যাত্রীসেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সেবাটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিমানবন্দরজুড়ে অত্যন্ত আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। কারিগরি তথ্যানুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের আওতায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ স্থাপন করা হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত কাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সেই অনুযায়ী, ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট ব্যবহার করে একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন যাত্রী কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গত ২৬ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। পরীক্ষামূলক মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই ডিজিটাল সেবা সফলভাবে ব্যবহার করেছেন এবং এ সময়ে মোট প্রায় ২.৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আজ থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলো। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে যোগাযোগ রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ পরিচালনা অনেক সহজ হবে, যা বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


