আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

আজ মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নীতিগত কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, জনস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, গণমাধ্যমের সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের পরিকল্পনা ও বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম বৃহৎ এবং মেগা প্রকল্প। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী পরিচালন ক্ষমতা আড়াই গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যেই টার্মিনালের সমস্ত কারিগরি ও অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করে তা যাত্রী সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ধারাবাহিক ওঠানামা এবং অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতি ও সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে ভর্তুকি ও অন্যান্য সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনস্বাস্থ্য খাতের কথা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের কিছু উদাসীনতার কারণে দেশে হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটেছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুততার সাথে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং দেশব্যাপী গণটিকাদান নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা সংগ্রহ করেছে। জনস্বাস্থ্যের টেকসই মানোন্নয়নে সরকার শিগগিরই প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যা দেশের চিকিৎসা সেবায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের গণমাধ্যম খাতের সংস্কারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অরাজকতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা বিরাজ করছে। এই খাতকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে একটি স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি রূপরেখা কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। এই কমিশন দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করবে।

রাজনৈতিক ও স্থানীয় শাসনের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী সরকারের একটি অন্যতম প্রধান পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সময়াবদ্ধ এই নির্বাচনী রোডম্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে জনগণের অংশগ্রহণ ও জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ