আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লেস-বাঁ-তে শুরু হতে যাওয়া ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পার্শ্ববর্তী সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর। মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বনেতারা সোমবার থেকে তিন দিনের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর একদিন আগে রবিবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জেনেভার রাস্তায় নেমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জেনেভার জাতিসংঘ (ইউএন) ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও আতশবাজি ছুঁড়ে মারে। জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ভবনের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ফ্লেয়ার ছুঁড়ে মারে।
জি-৭ বিরোধী একটি জোটের ডাকে হওয়া এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইভিয়ান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেনেভায় হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ফ্রান্সে জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রায় ২০ হাজার মানুষ একটি মিছিলে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী এলাকায় জড়ো হয়। মিছিলটি শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু আন্দোলনকারী দোকানের সামনে সুরক্ষার জন্য লাগানো প্লাইউডের প্যানেল খুলে ফেলে এবং জানালা ভাঙচুর করে। তারা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে এবং একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেনেভা নগর সরকার জানিয়েছে, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ভেন্যুর কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দিতে ফ্রান্স অস্বীকৃতি জানানোয় মূলত জেনেভায় এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।
জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে এই ধরনের বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। আন্দোলনকারীরা সাধারণত পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের সাতটি ধনী দেশের নেতারা তিন দিনের বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার এভিয়ানে সমবেত হচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনের মূল আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধ প্রধান বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাবে।


