জাতীয় স্বার্থে নারীদের স্বাবলম্বী করা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় স্বার্থে নারীদের স্বাবলম্বী করা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ তথা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করতে পারলে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বর্তমান প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার সিলেটের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত স্থানীয় চা বাগানের নারী শ্রমিকসহ সুবিধাভোগীদের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বাজেট দর্শনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের জাতীয় বাজেটে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও খেলাধুলার মানোন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট তহবিল রাখা হয়েছে। এই বাজেটকে সম্পূর্ণরূপে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বাজেট নিয়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী এই গণমুখী বাজেটকে কেউ কেউ নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন, যা বাস্তবতার পরিপন্থী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিগত সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণাকালীন হবিগঞ্জে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হলো। নির্বাচনের পর মাত্র এক মাস পার হওয়ার আগেই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যা সরকারের কর্মতৎপরতা ও সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যখনই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা বিএনপির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নাগরিক ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে যদি সঠিকভাবে উৎপাদনশীল কাজে লাগানো যায়, তবে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা অসম্ভব কিছু নয়।

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়েও সরকারপ্রধান তাঁর জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অতীতে দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না। জনগণের অর্থ শুধু জনগণের কল্যাণে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেই ব্যয় করা হবে। একই সাথে, যারা অবৈধভাবে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত বা সম্পৃক্ত হতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে চা শিল্পাঞ্চলের নারী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ