প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় ডেস্ক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ম্যাথ ল্যাব’ (গণিত গবেষণাগার) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গণিতভিত্তিক দক্ষতা, যৌক্তিক চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী হিসেবে গড়ে তোলা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সাঁতারকুলে একটি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করা আবশ্যক। সেই লক্ষ্যেই দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে এই ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি শিশুদের প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করবে এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভিশনের আলোকে বর্তমান প্রশাসন একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার সমান সুযোগ পাবে। এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের পথে ম্যাথ ল্যাব স্থাপন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক স্তরে গণিতের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষার অভাব দীর্ঘদিনের। ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গাণিতিক ধাঁধাঁ, জ্যামিতিক কাঠামো ও প্র্যাকটিক্যাল উপকরণের সাহায্যে সহজেই কঠিন বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারবে। এটি কেবল তাদের পরীক্ষার নম্বর বাড়াতে নয়, বরং বাস্তব জীবনে গাণিতিক সূত্রের প্রয়োগ শেখাতে সাহায্য করবে।

এই উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে বলে মতবিনিময় সভায় আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে এটি একটি স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সুদূরপ্রসারী ও সুনির্দিষ্ট অবদান রাখবে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শন ও এই মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ