ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ জেলেনস্কির

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচকদের মনোযোগ কমে গেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এ পরিস্থিতি ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মঙ্গলবার জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী স্টিভ উইটকফ ও জেরেড কুশনার বর্তমানে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই কারণে ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের সময় ও মনোযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ফলে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার গতি কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, মস্কোর ওপর যথাযথ চাপ না থাকলে এবং শুধুমাত্র নরম কূটনৈতিক অবস্থান বজায় থাকলে রাশিয়া শান্তি আলোচনায় অনাগ্রহী থাকতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ একাধিকবার স্থবির হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর রুশ ও ইউক্রেনীয় পক্ষের মধ্যে আর কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ প্রক্রিয়ায়ও বিঘ্ন ঘটছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে আরও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি বিশেষভাবে প্যাট্রিয়ট সিরিজের পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং পিএসি-২ মিসাইল সরবরাহ নিয়ে জটিলতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ইউক্রেন বর্তমানে পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমে এসব সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নরওয়ে সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনেও জেলেনস্কি একই উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইউক্রেন অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, “যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সরবরাহ আরও কমে যাবে, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হবে।”

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে। নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইউক্রেনীয় ড্রোন নরওয়েতে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে একই দিনে জেলেনস্কি জার্মানির বার্লিনে সরকারি সফরে যান এবং চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্সসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়।

জার্মানি ও ইউক্রেনের মধ্যে এ সময় প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুই দেশ সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনছে। এর ফলে ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ ও সম্পদের বণ্টনে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ