জাতীয় ডেস্ক
বাহরাইনে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা প্রবাসী বাংলাদেশি গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ আজ সকাল সাড়ে ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ কার্যক্রমে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। তিনি মরদেহ গ্রহণ করে পরে নিহতের ছোট ভাই সমর চন্দ্র সূত্রধরের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাহরাইনে অবস্থানকালে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাহরাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত প্রবাসে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট দেশটির কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র, হাসপাতাল বা পুলিশ প্রতিবেদন এবং দূতাবাসের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে মরদেহ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।
মরদেহ গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের দাফন বা সৎকার কার্যক্রমের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তির পর পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সহায়তা সাধারণত প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে দেওয়া হয়ে থাকে, যা মৃত কর্মীর পরিবারকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে সহায়তা করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। নিবন্ধনের মাধ্যমে শ্রমিকদের একটি আনুষ্ঠানিক ডাটাবেজ তৈরি হয়, যা বিদেশে কর্মরত অবস্থায় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা প্রদান সহজ করে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বৈধ চ্যানেলে বিদেশগমন এবং সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান, যাতে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর সিলেট সদর উপজেলার পূর্ব মাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে বাহরাইনে যান এবং সেখানে একটি কর্মস্থলে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুততম সময়ে মরদেহ প্রত্যাবর্তন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় পরিবারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়।


