বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা

বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার সকালে সংসদের অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি চাকরি বিশেষ করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ, পদোন্নতি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক পদায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে প্রশাসনে দলীয়করণের প্রভাব বিস্তার পেয়েছে এবং এ প্রেক্ষাপটে কতজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কতজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং কতজনকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করা হয়েছে—সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।

একই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

প্রশাসনিক পরিভাষায় ওএসডি (Officers on Special Duty) সাধারণত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিশেষ দায়িত্ব বা প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এটি শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে আরও জানতে চাওয়া হয়, বিগত সরকারের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগগুলো নিয়ে সরকার কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেবে কি না। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরকারের কাছে উপস্থাপিত হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি চাকরি ব্যবস্থায় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিযোগিতামূলক এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তবে বিভিন্ন সময়ে এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

সংসদে উত্থাপিত আলোচনায় প্রশাসনিক পদায়ন, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর ও ওএসডি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরি ব্যবস্থার সাম্প্রতিক চিত্র উঠে আসে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকার বিষয়টি সরকারের অবস্থান হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে বলে সংসদে জানানো হয়, যা পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ