জাতীয় ডেস্ক
২০২৬ সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবারের হজযাত্রার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাত্রাপূর্ব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবহিত হন।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বিমানে যান। তিনি যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হজ পালনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিয়মাবলি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে হজযাত্রা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটটি ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইন্যাস অংশ নিচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের এই কার্যক্রম আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে।
সরকারের পক্ষ থেকে হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্প এলাকায় যাত্রীদের ইমিগ্রেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ করতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে হাজিদের আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম ৩০ মে থেকে শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাওয়া-আসার সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।


