উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি সামরিক বাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি: ঝুঁকিতে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি সামরিক বাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি: ঝুঁকিতে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে ইরানের বিশেষায়িত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো দেশ ইরানের শত্রুপক্ষকে সামরিক সহায়তা প্রদান করে অথবা নিজ ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

ইরানি সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য নিজেদের ভূমি বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তবে এই অঞ্চলে তাদের তেল উৎপাদন সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। মূলত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলক্ষেত্র ও শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, অতীতে এই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ ইরানের শত্রুপক্ষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্প অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম সরাসরি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি, তবে কৌশলগত কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনের স্পর্শকাতর স্থানগুলো তেহরানের নজরদারিতে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সিংহভাগই দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এসব দেশের অনেকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও নৌ-ঘাঁটি অবস্থিত। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার বিরোধে এই রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি কোনো দেশ তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ দেয়, তবে ইরান তাকে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ হিসেবে গণ্য করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই অবস্থান মূলত একটি ‘প্রতিরোধমূলক কৌশল’। তেলের ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো বড় ধরনের হামলায় এই দেশগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং তৎসংলগ্ন তেল পরিবহন রুটে ইরানের শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে এই হুমকিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সম্ভাবনা, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম এবং সরবরাহের চেইন স্বাভাবিক রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এমতাবস্থায়, তেহরানের এই সরাসরি হুমকি আঞ্চলিক দেশগুলোকে তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ