ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন: রাশেদ খান

ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক

ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল এবং গোপনীয় রাজনীতির চর্চা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিবিরের ভূমিকা এবং এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

রাশেদ খান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছাত্রশিবির তাদের সব নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে না আনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে থাকে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তির বিষয়টিকে চিহ্নিত করেন। তার মতে, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকায় শিবিরের কর্মীরা প্রকাশ্যে এলে রাজনৈতিক কারণে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার আশঙ্কা করেন। ফলে সংগঠনের একটি বড় অংশকে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে রাখা হয় এবং অন্য একটি অংশকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে অনুপ্রবেশ করানো হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, শিবিরের এই দ্বিমুখী নীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিয়ে এক ধরনের সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ ছাত্রদের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে এবং দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের স্বার্থে ছাত্রশিবিরকে গোপনীয়তা পরিহার করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা দেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এখন চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। তবে সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সব রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে বিরোধী শক্তি হিসেবে সহযোগিতা করা এবং সহনশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি গোষ্ঠী সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে নব্য ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি এবং সংস্কারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ তুলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। ১৬ দিনের মধ্যে পতনের হুমকি কিংবা আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো পরিস্থিতিতে ফেলার যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কাম্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অসহনশীল রাজনীতি এবং পারস্পরিক বিষোদগার শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মতো বিতর্কিত শক্তির প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ সহনশীল রাখতে ব্যর্থ হলে এবং বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। বিশেষ কোনো সংগঠনের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের ফলে যদি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, তবে তা ছাত্র-জনতার অর্জিত বিপ্লবকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। পেশাদার রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ