আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে আবারও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো প্রেসিডেন্টের যুদ্ধকালীন ক্ষমতা সীমিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো।
প্রস্তাবটির পক্ষে ৪৬ জন সিনেটর ভোট দিলেও বিপক্ষে অবস্থান নেন ৫১ জন। মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে প্রস্তাবটি পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এটি নাকচ হয়ে যায়। মূলত রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে দলীয় আনুগত্য এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রবণতা এই ভোটাভুটির ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।
এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের দাবি ছিল, একক সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা বৃদ্ধি বা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে আইনসভার তদারকি জরুরি। তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতাকারীরা মনে করেন, এতে জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হবে।
ভোটগ্রহণের পূর্বে সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার রিপাবলিকান সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে কেবল ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে আসছেন, যা বাস্তবে রূপ দেওয়ার সদিচ্ছা তার নেই।
শুমার আরও বলেন, এই ভোটাভুটি ছিল যুদ্ধ বন্ধের একটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু রিপাবলিকান সিনেটররা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অনুগত থেকে সেই সুযোগটি হেলায় হারিয়েছেন। তিনি রিপাবলিকানদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, তারা স্বাধীন আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেয়ে হোয়াইট হাউসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক কৌশলে প্রেসিডেন্টের একক কর্তৃত্বকে আরও শক্তিশালী করল। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এটি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি চিত্রও তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা এবং পরবর্তী সময়ে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মতো ঘটনার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বারবার সিনেটে তা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিটি আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে অভ্যন্তরীণ আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।


