খেলাধুলা ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পেস আক্রমণে খালেদ আহমেদকে সরিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ফেরানো হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে। নির্বাচক প্যানেলের দাবি, এই রদবদল পারফরম্যান্সের ঘাটতির কারণে নয়, বরং প্রতিপক্ষের শক্তির কথা বিবেচনায় রেখে সম্পূর্ণ কৌশলগত কারণে করা হয়েছে।
মুরাদের বাদ পড়া ও নাঈম হাসানের প্রত্যাবর্তন গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে ১২ উইকেট শিকার করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হাসান মুরাদ। দুই টেস্টেই তিনি ইনিংসপ্রতি চারটি করে উইকেট নিয়েছিলেন। সফল এই স্পিনারকে বাইরে রাখা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, পাকিস্তান দলের টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য থাকায় অফস্পিনার নাঈম হাসানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের মতে, বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে অফস্পিন বেশি কার্যকর হবে, যা সম্পূর্ণ একটি কারিগরি সিদ্ধান্ত। নাঈম হাসান আগেও ফর্মের কারণে দলছুট হননি, বরং দলের ভারসাম্যের তাগিদে তাকে বাইরে থাকতে হয়েছিল।
পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতার অগ্রাধিকার পেস ইউনিটে বড় চমক তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের ফেরা। চোট ও দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তাসকিন আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছেন। নির্বাচকরা জানিয়েছেন, তাসকিন এখন সম্পূর্ণ ফিট এবং বোর্ড তার ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ বা কাজের চাপ সামলে তিন সংস্করণেই খেলানোর পরিকল্পনা করছে। শরিফুল ইসলামকেও টেস্টের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে পেসার খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেনকে নিয়ে। আয়ারল্যান্ড সিরিজে খালেদ ভালো বোলিং করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরা ইবাদত হোসেনের ওপরই আস্থা রেখেছেন। হাবিবুল বাশারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খালেদ লাইন-লেংথ ধরে রাখতে পারদর্শী হলেও ইবাদত একজন ‘উইকেটশিকারি’ এবং আগ্রাসী বোলার হিসেবে সমধিক পরিচিত। টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়েই খালেদকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন মুখ ও বাদ পড়াদের ভবিষ্যৎ ঘোষিত স্কোয়াডে নতুন মুখ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অমিত হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন জাকের আলী অনিক ও হাসান মাহমুদ। নির্বাচক প্যানেল জানিয়েছে, দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচক ইতোমধ্যে ফোনে মুরাদ, খালেদ ও জাকের আলীর সাথে কথা বলে দল থেকে বাদ পড়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং ঢাকায় ফিরে তাদের সাথে বিস্তারিত বসার আশ্বাস দিয়েছেন।
কৌশল বনাম ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ দলের এই দল নির্বাচন স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান ম্যানেজমেন্ট নির্দিষ্ট কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে দল সাজাতে আগ্রহী। হাসান মুরাদের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারকে বাদ দেওয়া বা খালেদ আহমেদের বদলে ইবাদতকে ফেরানো সেই ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ’ বা কৌশলগত অবস্থানেরই প্রতিফলন। আসন্ন পাকিস্তান সফরে এই কৌশলগত পরিবর্তনগুলো মাঠে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


