অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৮ টাকা। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচাসোনার সরবরাহ ও চাহিদা বিশ্লেষণ করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন থেকে ২ লাখ ২১৩ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও পুনঃনির্ধারণ করেছে বাজুস। ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তথা ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাস ধরে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ছিল আকাশচুম্বী। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছিল। বিশেষ করে গত ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। সে সময় একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস, যা ছিল দেশের জুয়েলারি খাতের ইতিহাসে একক দিনে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির রেকর্ড।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনাকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, প্রতি আউন্স সোনার দাম বর্তমানে ৪ হাজার ৬৬৭ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ধারাবাহিক দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণেই দেশের ক্রেতারা কিছুটা কম দামে সোনা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেছিলেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল। এখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের ফলে দাম কমতে শুরু করেছে। বাজুসের এই পদক্ষেপ দেশীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ফের দেখা দিলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিয়ের মৌসুম বা ধর্মীয় উৎসবের আগে সোনার দামের এই হ্রাস সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর। তবে বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


