অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তজনা এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের মূল্যে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে দেখা যায়, টানা নবম দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী জুনে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৯১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৯ দশমিক ৯৪ ডলারে স্থিতি পেয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচার্সের দাম ব্যারেল প্রতি ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যার প্রতিফলন ঘটছে তেলের মূল্যে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ এবং দেশটির প্রধান বন্দরগুলোর মাধ্যমে তেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বাধার বিষয়টি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে বড় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হতে পারে, তা কীভাবে অন্যান্য উৎস থেকে পূরণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক পরিবহন খরচ ও পণ্য উৎপাদন ব্যয়ের ওপর। বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
ইরান-ইসরায়েল সংকটের পাশাপাশি ওপেকের উৎপাদন নীতি এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদাও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিল্পোন্নত দেশগুলো এখন বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার স্থিতিশীল করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দ্রুত এই উত্তেজনা নিরসনে সক্ষম না হয়, তবে জ্বালানি বাজারের এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


