অপরাধ ও দুর্ঘটনা ডেস্ক
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও তীব্র ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর ও সাধারণ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করেছে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী লেনে শ্রীনগরের কামারখোলা ব্রিজের ওঠার ঢালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার উত্তরা আবদুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’ নামক একটি বাস নিয়ন্ত্রিত গতিসীমা লঙ্ঘন করে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। বাসটি কামারখোলা ব্রিজের ঢালে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং সামনে থাকা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘রাইদা পরিবহন’ নামক অপর একটি যাত্রীবাহী বাসকে পেছন থেকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সামনের অংশটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর ফলে বাসের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী সিটের মাঝে এবং গাড়ির কাঠামোর ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই এক্সপ্রেসওয়ের ওই লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি বিশেষ দল উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে বাসের জানালা ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশ কেটে ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসেন। এরপর আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং গুরুতর আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটির অধিকাংশ যাত্রীই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও গাংনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তারা রাজধানী থেকে নিজ নিজ জেলায় ফিরছিলেন। তিনি আরও জানান, আহতদের অনেকের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই পরবর্তী সময়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের সংখ্যা এবং গতি দুই-ই বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়শই বেপরোয়া গতি এবং ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। কামারখোলা ব্রিজের ঢালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক সময় তা অমান্য করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এবং বেপরোয়া গতির জন্য দায়ী চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


