ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

জাতীয় ডেস্ক

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ঈদুল আজহার মাত্র এক দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় এই শুভেচ্ছা ও বার্তা প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেন, পবিত্র ঈদুল আজহা প্রতি বছর বিশ্ব মুসলিমের দ্বারে ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে হাজির হয়। এই শুভক্ষণে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি তিনি ‘ঈদ মোবারক’ জানান এবং বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করেন। তিনি বলেন, ইসলামের এই মহান উৎসব কেবল মাত্র একটি আনন্দ-অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান ও ত্যাগের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তকে স্মরণ করে এই দিবসটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, মানুষের এই আত্মত্যাগ যেন কবুল হয় এবং বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পবিত্র ঈদুল আজহার মূল চেতনা হচ্ছে ভোগ নয়, ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। উৎসবের এই দিনগুলোতে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ভুলে সবাই যেন আনন্দের অংশীদার হতে পারে, সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকারিভাবেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা, পশুর হাটগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং ঈদের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তার শেষাংশে দেশবাসীর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ত্যাগের মহিমায় এই পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জীবনকে ভাস্বর করে তুলুক। মানুষের কোরবানি ও ইবাদত কবুল হওয়ার মাধ্যমে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক এবং অশেষ রহমত ও বরকতে সবার জীবন শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ