অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রাক্কালে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে আগামী জুন মাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ জুন ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ঝুঁকি মোকাবিলা, সক্ষমতার দ্বার উন্মোচন’। আয়োজক সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণ ঘটার কথা রয়েছে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হ্রাসসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশ। এই রূপান্তরকালীন সময়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন বাজার খোঁজা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই সম্মেলনটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বহুজাতিক উন্নয়ন ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং বেসরকারি খাতের অংশীজনসহ প্রায় ৩৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
সম্মেলনের মূল কার্যসূচিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতের সার্বিক সংস্কার নিয়ে মোট সাতটি বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো— বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি আধুনিকায়ন, অর্থায়ন ও বৈশ্বিক মূলধন সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) গতিপ্রবাহ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সম্মেলনটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত সহায়তা এবং উদীয়মান খাতের সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারক ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যকার আলোচনা থেকে এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়ন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


