জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ঈদের দিন সকালে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে এই প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে যে, প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হবেন। নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ঈদগাহে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন। প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এখানে নামাজ আদায় করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
প্রধান জামাত আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটি সর্বস্তরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে আধুনিক প্যান্ডেল, ওজু ও বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও পর্দার অন্তরালে নামাজ আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে জামাতে অংশ নিতে পারেন।
বর্ষা মৌসুমের কারণে ঈদের দিন প্রতিকূল আবহাওয়া বা ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, কোনো কারণে যদি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য জাতীয় ঈদগাহে জামাত আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুততম সময়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় জমায়েতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আর্চওয়ে দিয়ে প্রবেশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী, বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ডিএসসিসির প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। এরপর তাকে নির্দিষ্ট আসনে নিয়ে যাওয়া হবে। নামাজ শেষে শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব শেষে তিনি পুনরায় বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।


