দুই বছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণকে সেরা সিটিতে রূপান্তরের ঘোষণা প্রশাসকের

দুই বছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণকে সেরা সিটিতে রূপান্তরের ঘোষণা প্রশাসকের

রাজধানী ডেস্ক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএসসিসি) আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আবদুস সালাম। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা, আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রমনা রেস্টুরেন্টে ডিএসসিসি ইন্সপেক্টর অ্যাসোসিয়েশন কমিটির বিদায়ী সংবর্ধনা ও নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নগরীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সিটি কর্পোরেশন যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং সেবামূলকভাবে শক্তিশালী থাকে, তবে এর সুফল কর্মচারী ও নগরবাসী উভয়ই ভোগ করবে। প্রতিষ্ঠানকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই এই সংস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। তবে কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া যাবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, নগরবাসীকে একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়া আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেও নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ঢাকা শহর বিশ্বের অন্যতম অপরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে স্থান পাওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এই গ্লানি মোচনে একক প্রচেষ্টার চেয়ে নাগরিক সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ বেশি জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার মানসিকতা ত্যাগ করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, নাগরিকরা যদি সচেতন না হন, তবে শুধু সিটি কর্পোরেশনের লোকবল দিয়ে শহরকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা অসম্ভব।

প্রশাসক তার বক্তব্যে আসন্ন দিনগুলোতে ডিএসসিসির সেবার মান বাড়াতে কঠোর তদারকি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাদের পেশাগত সততা বজায় রাখেন, তবে আগামী দুই বছর পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাসযোগ্য নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি ইন্সপেক্টর অ্যাসোসিয়েশনের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ গ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি আরও ত্বরান্বিত করা হবে।

বিগত বছরগুলোতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান প্রশাসনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়ে একটি জনবান্ধব সিটি কর্পোরেশন গঠনই বর্তমান কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। প্রশাসকের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট নিরসন ও বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা গেলে দুই বছরের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও জনবল সংকট কাটিয়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ