বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২৭ জোড়া বাবা-ছেলের অনন্য কীর্তি

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২৭ জোড়া বাবা-ছেলের অনন্য কীর্তি

খেলাধুলা ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের এই মহারণ শুরু হতে বাকি রয়েছে মাত্র ২৭ দিন। আসন্ন এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ফুটবল ইতিহাসের এক অভাবনীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় এ পর্যন্ত ২৭ জোড়া বাবা ও ছেলে খেলোয়াড় হিসেবে মূল পর্বে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম বাবা-ছেলের অনন্য রেকর্ডটি মেক্সিকান পরিবারের দখলে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত ফুটবলের প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিলেন লুইস পেরেজ। এর ঠিক ২০ বছর পর ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকো দলের সদস্য হিসেবে মাঠে নামেন তার ছেলে মারিও পেরেজ। এই পারিবারিক ধারাবাহিকতা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি স্থায়ী মাইলফলক হয়ে আছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাবা ও ছেলের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার ঘটনাও বিরল নয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত নাম মার্তি পান্তোলরা এবং তার ছেলে হোসে পান্তোলরা। বাবা মার্তি ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তার ছেলে হোসে পান্তোলরা ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন স্বাগতিক মেক্সিকোর জার্সি গায়ে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক আনুগত্য পরিবর্তনের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

ফুটবল বিশ্বের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল বাবা-ছেলের তালিকায় রয়েছেন ফ্রান্সের থুরাম পরিবার। কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিলিয়ান থুরাম ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছেলে মার্কাস থুরাম ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। কাতার আসরে ফ্রান্স ফাইনালে পৌঁছালেও আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করে। লিলিয়ান ও মার্কাস থুরামই একমাত্র বাবা-ছেলে জুটি যারা উভয়েই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়েছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিবারের দুই প্রজন্মের এমন প্রতিনিধিত্ব কেবল ক্রীড়াশৈলীর ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করে না, বরং এটি ফুটবল সংস্কৃতির বংশপরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ার বহিঃপ্রকাশ। এই ২৭ জোড়া খেলোয়াড়ের তালিকায় আরও অনেক কিংবদন্তির নাম রয়েছে যারা বিভিন্ন সময়ে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন। ২০২৬ সালের আসন্ন আসরে নতুন কোনো বাবা-ছেলের রেকর্ড তৈরি হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এই বিশেষ তথ্য প্রকাশ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ