আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও বড় ধরনের ‘বিস্ময় বা চমক’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। স্থানীয় সময় বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ প্রথমবারের মতো ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ইরান পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় মার্কিন প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। বিগত যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত জ্ঞান অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। ফলে নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে সেখানে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য আরও বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
আব্বাস আরাঘচির এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে স্টিলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি সামরিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ এই প্রযুক্তির বিমান রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং একে অত্যন্ত সুরক্ষিত মনে করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এমন দাবি মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের এই অবস্থান ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তেহরানের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবে কোনো উল্লেখযোগ্য বা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। ইরান পরমাণু চুক্তি বা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ওয়াশিংটন এখন ভিন্ন পথ অনুসরণের কথা ভাবছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রক্ষিতে সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কী কী বিকল্প বা অপশন রয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা পর্যালোচনা করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন ও হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি—উভয় দেশের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক উপায়ে এই অচলাবস্থা নিরসন করা না যায়, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আসছে।


