রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা ঐক্য বিনষ্ট করতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। গত সোমবার (১৮ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। বিবৃতিতে তিনি সরাসরি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচার, চরিত্র হরণ এবং মব বা উশৃঙ্খল জনতা তৈরির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করার অপকৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে ছাত্রদল সভাপতি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্যকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে। বিগত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত মব সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক নোংরামি ও চরিত্র হরণের মতো অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই সমস্ত অপতৎপরতার বিপরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চরম সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এসেছে।
সংগঠনটির সাংগঠনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বিগত কয়েক মাস ধরে ছাত্রদল দেশের প্রতিটি জেলায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার এবং তাদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশীদার হওয়ার পরও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো মব সৃষ্টি করা হয়নি বা বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে নাজেহাল করার ঘটনা ঘটেনি।
ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রশিবির শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের গুপ্ত রাজনীতির চারণভূমি গড়ে তুলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থেকে সুযোগ সুবিধা নেওয়া এই গোষ্ঠীটি এখনও সেসব ক্যাম্পাসে মব সংগঠিত করছে এবং নিষিদ্ধ বা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উদাহরণ টেনে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, যেখানে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা-মহানগরগুলোতে ছাত্রদলের বিপুল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, সেখানে ডুয়েটে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন গুপ্ত শিবির ও ছাত্রলীগ কর্মী ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার পাঁয়তারা করছে। ডুয়েটে শিবিরের ঘোষিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের ব্যানারে না এসে, পূর্বপুরুষদের অপকৌশল অবলম্বন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারকে কলুষিত করছে।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটকে অবমাননা করে এবং গুপ্ত রাজনীতি অব্যাহত রেখে দেশের কোনো ক্যাম্পাসে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে দেশের অধিকাংশ ক্যাম্পাসেই মব কালচার বা উশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এমতাবস্থায়, ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে যদি পুনরায় গুপ্ত রূপ ধারণ করা হয়, তবে ছাত্রদল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্মগুলো প্রকৃত শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর থাকবে। দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, ছাত্রকল্যাণমুখী রাজনীতি এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন বিনির্মাণে ছাত্রদল সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি বিবৃতিতে পুনরুল্লেখ করেন।


