সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের দাবি এনসিপির

সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের দাবি এনসিপির

রাজনীতি ডেস্ক

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উত্তর আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী নাগরিক খাদিমুল ইসলামের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও তার কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিহত খাদিমুলের বাড়িতে যান এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে ক্রমাগত হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের যে সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে, বর্তমান কর্তৃপক্ষ তা পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যদি বর্তমান প্রশাসন সীমান্ত হত্যা বন্ধে যথাযথ কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিগত দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে নিহত খাদিমুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনাটির বিবরণ উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে খাদিমুল কেবলই মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। অথচ এই ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেছে, তার তথ্যের সাথে বিএসএফের বয়ানের সাদৃশ্য রয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও স্বাধীন তদন্তমূলক ভূমিকার প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের দায় এককভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সীমান্তের সাধারণ অধিবাসীরাই বিএসএফের নানামুখী নির্যাতনের মূল শিকার হচ্ছেন।

সীমান্ত হত্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ পর্যন্ত সীমান্তে যত বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে তাদের দল রাষ্ট্র পরিচালনায় এলে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য স্থায়ী আবাসন ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদসহ স্থানীয় ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডকে দীর্ঘস্থায়ী করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন রক্ষার্থে দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র নীতিকে আরও শক্তিশালী এবং স্বাধীন করার আহ্বান জানান বক্তারা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ