লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সেতুমন্ত্রী

লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সেতুমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরের দিকে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ নামে এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে। কোনো জটিলতা তৈরি না হলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে দুমকি উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাউফলের দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরার একটি চিঠির সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী এই সেতুটি নির্মাণের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত যোগাযোগ দুর্ভোগ দূর করার লক্ষ্যে এবং এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সেতুটি নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সেতুর বিস্তারিত নকশা ইতিমধ্যে চীন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রাক-প্রস্তুতি ও অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের প্রাথমিক কাজগুলো শেষ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন চুক্তি (ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। চুক্তি সম্পাদনের পর চীন সরকারের পাঠানো নকশাটি চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদন শেষে মূল নির্মাণকাজে হাত দেওয়া হবে। চীন সরকার এই প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এর সামগ্রিক সুপারভিশন বা তত্ত্বাবধান করা হবে।

সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালী জেলার দুমকি ও বাউফল উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা জেলা সদরের সঙ্গে এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে ফেরি পারাপারের মাধ্যমে এই রুটে যানবাহন চলাচল করে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে স্থানীয় কৃষি পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে। এছাড়া এটি এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মতবিনিময় সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক, রেল ও নৌপথের সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি প্রান্তে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লোহালিয়া নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা তথা সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে।

উক্ত মতবিনিময় ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ