টমাস ডুলিকে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগ দিল বাফুফে

টমাস ডুলিকে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগ দিল বাফুফে

ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক টমাস ডুলিকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান নতুন এই কোচ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হলেও পরবর্তীতে বাফুফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সাবেক স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার বিদায়ের পর শূন্য হওয়া এই পদে নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং জটিল ছিল। ক্যাবরেরা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে কোনো বিদেশি কোচের দীর্ঘতম মেয়াদ। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোচ অনুসন্ধানে ২৭৩ জন প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেখান থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পান ২০ জন, যাদের মধ্য থেকে ১১ জনের অনলাইন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটি।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছিল। তার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। কোলম্যানের পুরো নিজস্ব কোচিং স্টাফ বাংলাদেশে নিয়ে আসার দাবি এবং অতিরিক্ত বেতনের শর্তের কারণেই মূলত সমঝোতা সম্ভব হয়নি। কোলম্যানের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই বাফুফে বিকল্প হিসেবে টমাস ডুলির সাথে যোগাযোগ শুরু করে। চলতি মাসেই গায়ানা জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই ডুলির বাংলাদেশে আসার গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল।

জার্মানির বেচহোফেনে ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করা টমাস ডুলির ফুটবল ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে ওঠে জার্মানিতেই। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানির বিভিন্ন পেশাদার ক্লাবে সুনামের সাথে খেলেন। এরপর ৩৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেন। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়। রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড় ১৯৯৪ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের হয়ে মোট ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ৭টি গোল করেছেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০০২ সালে ডুলি কোচিং পেশায় আত্মপ্রকাশ করেন। দীর্ঘ দুই দশকের কোচিং ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বাফুফে আশা করছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ডুলির এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জার্মান ফুটবল ঘরানার কৌশল বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উন্নয়নে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ