সারাদেশ ডেস্ক
সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। বিভাগে এটিই হামের উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ তিন শিশুর মৃত্যুর রেকর্ড ছিল।
নতুন করে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর পর চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে চারজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং অবশিষ্ট ৪৩ জন হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এবং জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এই দুই শিশুর বাড়ি যথাক্রমে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায়। একই সময়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায়। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি সুনামগঞ্জে, একজনের সিলেটে এবং একজনের হবিগঞ্জে। জেলাভিত্তিক এই তথ্য নির্দেশ করে যে, সুনামগঞ্জ জেলায় সংক্রমণের তীব্রতা ও জটিলতা তুলনামূলক বেশি।
এদিকে মৃত্যুর পাশাপাশি বিভাগে নতুন সংক্রমণের সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৭৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ২৮৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কারণে হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডের ওপর চাপ বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক টিকাদান নিশ্চিত না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ বা তীব্র ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সিলেটে চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারকরণ এবং দ্রুত আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


