ক্রীড়া ডেস্ক
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর স্বাস্থ্য সতর্কতা এবং ২১ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশনের নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ফুটবল দল। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করলেও কঙ্গো দল তাদের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানান, আফ্রিকান এই দেশটিতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় কঙ্গো দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পাওয়ার আগে ২১ দিন সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেশনে থাকতে হবে। বর্তমানে বেলজিয়ামে অবস্থানরত কঙ্গো দলটিকে একটি কঠোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলয় বা ‘বায়ো-বাবল’ মেনে অনুশীলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে দলটির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কড়া অবস্থানের বিপরীতে কঙ্গো ফুটবল দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাদের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ বা অনুশীলনের সূচিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ীই বেলজিয়ামে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং স্পেনে চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শুধু কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা সফরটি বাতিল করা হয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে দলটির জন্য একটি বিদায়ী আয়োজন হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
দলটির নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমান স্কোয়াডের সুরক্ষায় বাড়তি কোনো ঝুঁকি নেই। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান স্কোয়াডের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা কোনো খেলোয়াড়ই সম্প্রতি সরাসরি কঙ্গো থেকে আসেননি। স্কোয়াডের অধিকাংশ ফুটবলারই ইউরোপের বিভিন্ন নামী ক্লাবে পেশাদার লিগ খেলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই অবস্থান করছেন। এমনকি দলের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রেও ইউরোপে অবস্থান করে দলের তদারকি করছেন। ফলে দলের ভেতর ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসটির সংক্রমণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংস্থাটি কঙ্গোর জাতীয় পর্যায়ে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যেই দেশটির স্থানীয় অঞ্চলগুলোতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে বিশ্বকাপের আয়োজক ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে গ্রুপ ‘কে’-তে স্থান পেয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি ডিআর কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে তাদের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা যথাক্রমে কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের লড়াইয়ের আগে এই ধরনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দলটির মানসিক প্রস্তুতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন সব ধরনের প্রটোকল মেনে নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামার ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।


