অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার (নো ডিভিডেন্ড) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) উভয় প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারপ্রতি লোকসান পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত কোম্পানি দুটির পৃথক পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত ও আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়, যা পরবর্তীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৮১ পয়সা। লভ্যাংশ না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জুলাই।
চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৬ পয়সা বা প্রায় ২ শতাংশ। তবে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ১৫৮ টাকা ০৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২০২৫ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি ৬ টাকা ৮৭ পয়সা লোকসান গুনেছে। লভ্যাংশহীন এই সমাপ্ত বছরের অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের লক্ষ্যে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এই সভার অংশগ্রহণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ আগস্ট।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বে লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭৭ পয়সা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৩৭ পয়সা বা প্রায় ২১ শতাংশ। তবে লোকসান কমলেও গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ২১ টাকা ০৫ টাকায় অবস্থান করছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক অবস্থানে চলে যাওয়া এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটির সামগ্রিক মূলধন ও তারল্য সংকটের চিত্র নির্দেশ করে। প্রথম প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ সামান্য কমলেও তা প্রতিষ্ঠান দুটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠান দুটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও খেলাপি ঋণ আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করা আবশ্যক।


