জাতীয় ডেস্ক
২০২৭ সালের পবিত্র হজে গমনেচ্ছুকদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার হজের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থাকাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (১ জুলাই) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। সৌদি সরকারের ঘোষিত হজ রোডম্যাপের সঙ্গে সংগতি রেখে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হজে যাওয়ার প্রাথমিক ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে চিহ্নিত করে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকদের প্রাক-নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা জন্মসনদ জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সচল মোবাইল নম্বর এবং বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রদান করতে হবে। তবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে হজে যেতে চাইলে, তারা যৌথভাবে একটি একক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন বলে নীতিমালায় শিথিলতা আনা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের মতো একটি বৃহৎ ধর্মীয় কার্যক্রমে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন জড়তি থাকে। এই লেনদেন ব্যবস্থাকে শতভাগ নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল রাখতেই ব্যাংক হিসাব থাকার বিষয়টি আবশ্যিক করা হয়েছে। এর ফলে কোনো হজযাত্রী যদি প্রাক-নিবন্ধন বা চূড়ান্ত নিবন্ধনের পর কোনো কারণে হজে যেতে না পারেন, তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার জমাকৃত অর্থ সরাসরি ওই ব্যাংক হিসাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশাসনিক এই আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেসব হজযাত্রী এর আগে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করেননি, তাদের বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে আবশ্যিকভাবে এই তথ্য যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
হজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের ই-হজ প্রটোকল এবং কোটা বরাদ্দের বাধ্যবাধকতার কারণে নির্ধারিত ২৬ সেপ্টেম্বর সময়সীমার পর নতুন করে আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক বিবরণী গুছিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য হজযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


