বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথ উদ্যোগে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথ উদ্যোগে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা: বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারকালে পানিসম্পদমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী দেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতার নিরিখে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া, উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট নিরসন ও নদী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা সম্পন্ন করে অচিরেই ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ অনুমোদন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে ডাচ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে প্রথম সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস অতীতে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে, আগামীতেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল বাংলাদেশের প্রস্তাব ও অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ভৌগোলিক ও ভূ-প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই ব-দ্বীপ (ডেল্টা) রাষ্ট্র। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় উভয় দেশের চ্যালেঞ্জগুলো প্রায় একই রকম। ডাচ সরকার বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ডাচ সরকারের সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাচ প্রযুক্তি ও ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নদীমাতৃক ভৌগোলিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিবছর নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় এই যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম উদ্দিন এবং অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ