জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় নওগাঁ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করেন। আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান সাবেক এই সংসদ সদস্যকে তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিশেষে বিজ্ঞ বিচারক পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে ওমর ফারুক সুমনকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণী ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন মজুর ভিলার সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন সোহেল রানা। আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এজাহারভুক্ত আসামিরা বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে ছোড়া গুলিতে সোহেল রানা মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হন। একই সময়ে ঘটনাস্থলে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে সোহেল রানাসহ আরও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে এই সহিংসতার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ জুন মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাবেক এমপি ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি আদালতের নির্দেশে কারাগারে আটক রয়েছেন। নতুন এই আদেশের ফলে চলমান হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বা সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে।
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এসব মামলায় সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার মাধ্যমে সহিংসতার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। মামলাটির পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


