বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ছাত্রদলের ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ছাত্রদলের ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলায় টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকার মানুষের উদ্ধার তৎপরতা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম বেগবান করতে ১০ দফার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে এই মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা বিতরণসহ বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জারি করা ১০ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—বিপন্ন সাধারণ মানুষকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গবাদি পশুকেও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘রেসকিউ টিম’ বা উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরামর্শ ও সমন্বয় সাধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত ও বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসকল পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন, তাদের ফেলে যাওয়া বাসাবাড়ির জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনাবলীতে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারসহ সার্বিক মানবিক কার্যক্রমে নারী, শিশু এবং বয়োবৃদ্ধদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সাথে বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ যেমন—টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন মহামারির প্রাদুর্ভাব রোধে ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদ্রুত এলাকাগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হবে। এছাড়া বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রমেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।

সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব—সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সার্বিকভাবে এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় করবেন। মাঠপর্যায়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সমস্ত সাংগঠনিক তৎপরতা ও সেবামূলক কাজের তথ্য নিয়মিতভাবে ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরণের দুর্যোগে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশাসনের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ