তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেশের তরুণ সমাজকে শিক্ষিত, দক্ষ ও প্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকারের বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জনমিতিক লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

চলতি বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—’তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি’। এই মূলভাবটিকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে একটি শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্মের ওপর। তরুণদের এই সুপ্ত সম্ভাবনা ও স্বপ্নের বিকাশের জন্য রাষ্ট্রকে একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সক্ষমতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আজকের তরুণরাই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি। সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং একটি টেকসই সমাজ গঠনে সচেতন ভূমিকা পালন করবে।

একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে সুস্থ জনগোষ্ঠীর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই ভবিষ্যতের একটি সুদৃঢ় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে জাতীয় উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় কিছু বিদ্যমান সামাজিক চ্যালেঞ্জের কথাও বাণীতে উঠে আসে। বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির মতো সমস্যাগুলোকে তরুণ প্রজন্মের বিকাশের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যাগুলো কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী দেশের নবীন প্রজন্মকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল চেতনা ধারণ করে জাতীয় উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে এবং একটি নিরাপদ ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাণীতে তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ