জাতীয় ডেস্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন ধারার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্র, জনতা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে যে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, তা ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। এই বিপ্লবের সুফল ও চেতনা ধারণ করে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরিতে চট্টগ্রামের সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরামের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সাহসী যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা বিপ্লবের গতিপথকে ত্বরান্বিত করেছিল। জুলাই বিপ্লব কোনো একক গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ শামিল হয়েছিলেন। কেউ রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন, আবার কেউ অর্থ, খাবার কিংবা নৈতিক সমর্থন দিয়ে বিপ্লবকে সফল করেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়টি কেবল শোক প্রকাশের নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের শক্তিকে পুঁজি করে দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগের। জনগণের রায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে, যা দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন কল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের কঠোর তদারকির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টিরও বেশি পণ্যের দাম কমেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল সরঞ্জামের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ যে সকল অকুতোভয় যোদ্ধা জীবন দিয়েছেন, তাদের বীরত্বগাঁথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। তিনি আরও জানান, জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নির্ভুল তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হলে ইতিহাসের দায়বদ্ধতা মোচন সম্ভব হবে। ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনা জুলাই বিপ্লবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং সেই আদর্শকে ধারণ করেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
আলোচনা সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যক্রমে যথাযথ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম এই ত্যাগের মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।


