একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা

একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ মঙ্গলবার সকালে বাজুস চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত এই নতুন মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর বহাল থাকবে।

বাজুস ঘোষিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামেও আনুপাতিক হারে সংশোধন আনা হয়েছে। দেশের বাজারে এখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকায়। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা করা হয়েছে। তবে অলংকারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী প্রতি গ্রামে নির্ধারিত মজুরি যথারীতি যুক্ত হবে বলে বাজুস উল্লেখ করেছে।

ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাজারে কেনাবেচার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, স্বর্ণালংকার ও রৌপলংকার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভ্যাট ইতোমধ্যেই যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট দাবি করা যাবে না। এ ছাড়া অলংকার পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) বা বিক্রয়ের (পারচেজ) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, কারিগরি মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের পূর্ব নির্ধারিত নীতিমালা বহাল থাকবে।

দেশের স্বর্ণের বাজারে অতি সম্প্রতি পরিলক্ষিত ধারাবাহিক ওঠানামার অংশ হিসেবেই এই মূল্য সমন্বয়ের ঘটনা ঘটলো। এর আগে গত সোমবার সকালেই ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের মূল্য পরিবর্তনের কারণে আগের বাড়ানো পুরো অর্থই কমিয়ে আনলো সংগঠনটি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে অভূতপূর্ব অস্থিরতা ও ঘন ঘন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৯৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪৮ বার দাম কমানো হয়েছে, ৪৭ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায়শই ওঠানামা করছে। আন্তর্জাতিক দর এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের জোগানের ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিত এই দর পুনঃনির্ধারণ করে থাকে। ঘন ঘন মূল্যের এই পরিবর্তন একদিকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সাময়িক হিসাব-নিকাশে চ্যালেন্জ তৈরি করলেও, আকস্মিক এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তাৎক্ষণিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ