সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালুর উদ্যোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালুর উদ্যোগ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরে বিভিন্ন কারণে ভিসা বাতিলের শিকার বা জটিলতায় পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সার্বিক সহায়তায় একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পৃথক আরও একটি হটলাইন চালু করা হবে। এসব হটলাইনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ও সমস্যায় পড়া প্রবাসীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রবাসীদের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা এবং বিদেশি শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমানে চলমান ভিসা সংক্রান্ত সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

একই সাথে শ্রমবাজারের স্থায়িত্ব এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রবাসী নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট চলছে, সেসব দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের স্পর্শকাতর বা রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়োজক দেশগুলোর স্থানীয় আইন অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রবাসীদের এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অসচেতনতার কারণে শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

বৈঠকে শ্রমবাজারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ—জাল নথিপত্র বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বা চক্রের জালিয়াতির কারণে পুরো দেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের সার্বিক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে জাল নথিপত্র ব্যবহারের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করা হবে এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তি বা সংস্থাকে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানো হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছায়।

সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশগামী ও প্রবাসী কর্মী জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ